সকলের জন্য মানসম্পন্ন শিক্ষার সুযোগ সৃষ্টি করা আমাদের জাতীয় কর্তব্য : আইনমন্ত্রী

সকলের জন্য মানসম্পন্ন শিক্ষার সুযোগ সৃষ্টি করা আমাদের জাতীয় কর্তব্য : আইনমন্ত্রী

সকলের জন্য মানসম্পন্ন শিক্ষার সুযোগ সৃষ্টি করা আমাদের জাতীয় কর্তব্য : আইনমন্ত্রী

📅03 February 2019, 08:44

স্বদেশসময় ডটকমঃ
ঢাকা, ০২ ফেব্রুয়ারি (২০১৯):
আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রী আনিসুল হক বলেছেন, সকলের জন্য মানসম্পন্ন শিক্ষার সুযোগ সৃষ্টি করা আমাদের জাতীয় কর্তব্য। সরকারের একার পক্ষে এই বিশাল দায়িত্ব পালন করা দূরূহ ব্যাপার। তাই সরকারের পাশাপাশি সকল বেসরকারী প্রতিষ্ঠান এমনকি ব্যক্তি বিশেষ এগিয়ে এলে সরকার নতুনভাবে উজ্জীবিত হবে। তিনি বলেন, আমাদের মূল লক্ষ্য হ”েছ আমরা ২০৪১ সালের মধ্যে বাংলাদেশকে উন্নত দেশে পরিণত করতে চাই এবং এটি করতে হলে সবচেয়ে বড় যে জিনিষটা প্রয়োজন হবে সেটা হ”েছ মানসম্পন্ন শিক্ষা। আমাদের মনে রাখতে হবে এই প্রতিযোগিতামূলক বিশ্বে বেঁচে থাকতে হলে এই শিক্ষা দিয়েই আমাদেরকে বেঁচে থাকতে হবে। সেজন্যই আমরা শিক্ষার উপর জোর দিয়েছি।
আজ রাজধানীর মিরপুরে শহীদ সোহরাওয়ার্দী জাতীয় ইন্ডোর স্টেডিয়ামে ডাচ-বাংলা ব্যাংক লিমিটেড কর্তৃক প্রায় চার হাজার দরিদ্র ও মেধাবী শিক্ষার্থীকে বৃত্তি প্রদান অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তৃতায় এসব কথা বলেন তিনি।
তিনি বলেন, যুগোপযোগী ও মানসম্পন্ন শিক্ষা ব্যব¯’া ছাড়া সুশিক্ষিত ও দক্ষ মানবসম্পদ গড়ে তোলা সম্ভব নয়। তাই শেখ হাসিনার সরকার সুশিক্ষিত ও দক্ষ মানবসম্পদ গড়ে তোলার জন্য শিক্ষাকে দারিদ্র্যমুক্ত বাংলাদেশ গড়ার প্রধান হাতিয়ার হিসেবে বিবেচনায় নিয়েছে। এজন্যে বিনামূল্যে শিক্ষার্থীদের বছর শুরুর দিনেই পাঠ্যপুস্তক বিতরণ, যুগোপযোগী ও মুক্তিযুদ্ধের চেতনার আলোকে সিলেবাস প্রণয়ন, ছাত্র-ছাত্রীদের উপবৃত্তি প্রদান, দেশে ও বিদেশে ফেলোশীপ প্রদান, শিক্ষাক্ষেত্রে তথ্যপ্রযুক্তির ব্যবহার, মাল্টিমিডিয়া ক্লাসরুম ¯’াপন, শিক্ষক প্রশিক্ষণ, কারিগরি শিক্ষার প্রসার, মাদ্রাসা শিক্ষা আধুনিকায়ন প্রভৃতি কর্মকান্ড চালিয়ে যা”েছ।
মন্ত্রী বলেন, আজকের ছাত্র-ছাত্রীরাই আগামীদিন দেশ পরিচালনা করবে। তারাই অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির চালিকা শক্তি হিসেবে কাজ করবে। তাই তরুণ সমাজের মেধা বিকাশে সঠিক যতœ ও রক্ষণাবেক্ষণ করা আমাদের নৈতিক দায়িত্ব।
তিনি বলেন, অতীতে আমাদের মানসম্পন্ন শিক্ষা প্রদানের ক্ষেত্রে ছিল চরম বৈষম্য। এই বৈষম্য ছিল শহর ও গ্রামীণ প্রতিষ্ঠানের মধ্যে, সরকারি ও বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের মধ্যে, ধনী ও দরিদ্রের মধ্যে, শিক্ষিত ও অশিক্ষিত পরিবারের মধ্যে এমনকি একই শহরের ভিন্ন প্রতিষ্ঠানের মধ্যে। কিš‘ শেখ হাসিনার সরকারের কার্যকর বিভিন্ন পদক্ষেপ নেওয়ার ফলে আমাদের শিক্ষাক্ষেত্রে ওই বৈষম্য অনেক কমিয়ে এসেছে। এখন গ্রাম ও শহরের লেখাপড়া সমান তালে চলছে। কোন শিক্ষার্থী যে প্রতিষ্ঠানেই পড়–ক না কেন সে যেন মানসম্পন্ন শিক্ষা গ্রহণ করতে পারে সে ব্যব¯’া নিশ্চিত করা হ”েছ। শিক্ষা নিয়ে বাণিজ্য করার পথ বন্ধ করা হ”েছ। কোচিং বাণিজ্য বন্ধ করতে নীতিমালা প্রণয়ন করা হয়েছে এবং সে অনুযায়ী ব্যব¯’া নেওয়া হ”েছ। এসব পদক্ষেপ নেওয়া সম্ভব না হলে মেধার অসম প্রতিযোগিতা তৈরি হতো এবং সমাজের একটি বিরাট অংশ পিছিয়ে পড়তো। টেকসই উন্নয়ন বাধাগ্রস্ত হতো।
দরিদ্র ও মেধাবী শিক্ষার্থীদের উদ্দেশ্যে তিনি বলেন, তোমরা উ”চ শিক্ষা গ্রহণের ব্যাপারে কোন চিন্তা করবে না। তোমাদের উ”চ শিক্ষা গ্রহণের ব্যাপারে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সরকার যুগান্তকারী বিভিন্ন পদক্ষেপ হাতে নিয়েছে। সরকার কেবল দরিদ্র শিক্ষার্থীদের আর্থিক সহায়তা প্রদানের জন্য ‘প্রধানমন্ত্রীর শিক্ষা সহায়তা ট্রাস্ট’ নামে একটি স্বতন্ত্র ট্রাস্ট চালু করেছে। এছাড়া মেধাবী শিক্ষার্থীদের দেশে ও বিদেশে মাস্টার্স, এমফিল ও পিএইচডি ডিগ্রি অর্জনের জন্য ‘প্রধানমন্ত্রী ফেলোশিপ’, ‘বঙ্গবন্ধু বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি ফেলোশিপ ট্রাস্ট’ প্রদত্ত ফেলোশিপ, ‘জাতীয় বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি ফেলোশিপ’, ‘তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি ফেলোশিপ’ চালু করেছে। পাশাপাশি বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরী কমিশন ও পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়সহ বিভিন্ন সরকারি প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে বৃত্তি ও ফেলোশিপ প্রদান করছে। এছাড়া দেশি-বিদেশি অনেক বেসরকারি সং¯’া/ট্রাস্ট/প্রতিষ্ঠান মেধাবী শিক্ষার্থীদের বৃত্তি ও ফেলোশিপ প্রদানের জন্য হাত বাড়িয়ে আছে। তোমাদের মেধা ও যোগ্যতা দিয়ে এই সুযোগ গ্রহণ করতে হবে।
তিনি বলেন, তোমাদের আত্মীয়-স্বজন, বন্ধু-বান্ধব ও পাড়া-প্রতিবেশীদের এই বার্তা দিবে যে, অর্থের অভাবে এখন আর কারও লেখাপড়া বন্ধ থাকবে না। যার জীবন্ত উদাহরণ ডাচবাংলা ব্যাংকের বৃত্তিপ্রাপ্ত ৩ হাজার ৯৮৬ জন শিক্ষার্থী। লেখাপড়া করতে হলে যে জিনিষটা থাকতে হবে সেটা হলো মেধা, শ্রম ও ই”ছা শক্তি। কারও মধ্যে এই তিনটি গুণ থাকলে তার লেখাপড়া কেউ বন্ধ করতে পারবে না। সে সফল হবেই।
ডাচ্-বাংলা ব্যাংক পরিচালনা পর্ষদের চেয়ারম্যান সায়েম আহমেদ এর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে অন্যান্যের মধ্যে বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর ফজলে কবির, ব্যাংকের ব্যব¯’াপনা পরিচালক আবুল কাশেম মো. ডশরিন বকাতৃতা করেন।

No Comments

No Comments Yet!

You can be first one to write a comment

Leave a comment